হেতমপুরের মাঠে

শিলাজিৎ মজুমদার

1 min read September 17, 2026

হেতমপুরের মাঠে

কে একটা তোর মতো ঠিক হাঁটে

তার চলন বলন সব

যেন পাখির কলরব

যে পাখির নরম নরম ডানা

হয় তুই বা হাসনুহানা

যে হাসনুহানার নেশা

যেন তোর সুবাসেই ঠাসা

যে সুবাস আমি খুঁজি

যখন তোর বুকে মুখ গুঁজি

যখন তুই আমি ভঙ্গুর

দ্রাদিম দ্রিম দ্রিমা দুর দুর

দুর দুর দুরন্ত প্রাণ

সুখ স্বপ্নে সব আনচান

যে স্বপ্নে সাপ আর শিশির

শিশির অন্ধকারে ভিজে

যে অন্ধকারের রঙে

তুই তোর তুলনা নিজে

যে অন্ধকারের রসে

ভেজে জংলি মনের ফুল

যে জংলি মনের ফুলে

আজ বাতাস দোদুল দুল

সেই বাতাস আমার চেনা

সেই বাতাস আমায় ধরে

সেই বাতাস এতই সুখের

আমি ভুগি বাতাস জ্বরে

শরীর গরম শরীর কাঁপে

তখন বাতাসই জ্বর মাপে

তখন বাতাসই দেয় জল

তখন বাতাসই দেয় সাড়া

তখন বাতাসই ঝড় হয়

ঝড় ঝিলিক ঝম ঝম

সেই ঝিলিক যেন হাসি

তোর চোখের কোণে খেলে

যে খেলা খেলতে ভালোবাসি

যে খেলা না হয় যেন সারা

যে খেলায় না হার না জিৎ

যে খেলায় খসে পড়বে তারা

তারা পড়বে আমার বুকে

তারা পড়বে ঢেউয়ের সুখে

তারা পড়বে তুমুল টানে

তারা উল্কা হয়ে জ্বলে

পড়ে চিল্কা হ্রদের জলে

মিশিয়ে তারা বুকে

হ্রদ ঘুমিয়ে যাবে সুখে

সুখ ঝরা পাতার মতো

দুলবে হ্রদের কোলে কোলে

কালো জলের কোলে

টলটলিয়ে ঢেউ

যেন কাজল কাজল চোখে

ঝিলিক তোলে কেউ

সেই কাজল কাজল ঝিলিক

সেই শান্ত শীতল ঢেউ

যেন স্নিগ্ধ ছায়ার মতো

জলে আঁচল বেছায় কেউ

সেই আঁচল সুবাস মাখা

তাতে ভরা জাম কুড়োনোর বেলা

তাতে ভরা হেতমপুরের রোদ

তাতে ভরা পুতুল পুতুল খেলা

যে আঁচলে মনসাতলার পাশে

চাঁপা ফুল কুড়িয়ে দিতাম রেখে

যে আঁচল রঙিন মার্বেলে

ভরতাম অন্য আঁচল ভুলে

যে আঁচল থাকত যখন ফাঁকা

চোখে মুখে বুলিয়ে নিতাম আদর

যে আঁচল এখন হ্রদের জলে

ছলছল আমার জন্য রাখা

এ আঁচল — আঁচল ? না কি আদর

আদর না মেঘ মেশানো চাদর

চাদরে তারার কারুকাজ

কারু কাজে লাগবে কি এ সাজ

এ সাজে সাঁঝের প্রদীপ জ্বালা

গোধূলির ধুলোয় মাখা মন

এ ধুলোয় তুলসি পাতার বাস

এ সুবাস ঘোমটা খুলে আসে

খুলে যায় বন্ধ পাখির ঠোঁট

খুলে যায় সুড়ঙ্গেরই পথ

চলে যাই পাথর পাথর পথে

যে পথে নিশিগন্ধা ফোটে

যে পথের পাশেই ধানক্ষেত

যে ক্ষেতের ঘাসের গায়ে ধুলো

যে ধুলো গন্ধে রঙে লাল

যে লাল দেখলেই মন নাচে

যে নাচে নাচতে থাকে তারা

যে তারা খসে পড়তে জানে

যে জানা অজানাকেই ডাকে

যে ডাকে এখনও জ্বর আসে

যে জ্বরে বাতাস যাবে কেঁপে

যে বাতাস উড়িয়ে দেবে আঁচল

যে আঁচল ঝর্ণা হতে পারে

ঝর্ণার আঁচল থেকে আবার

তারাদের ঝর্ণা হতে পারে

যে তারার চোখের তারায় তারায়

সর্বনাশের খবর থেকে

যে খবর শুনতে পেলেই বুকে

দ্রিম দ্রিম দ্রাদিম দ্রাদিম সুর

দূর দূর দূরের শালবনে

বাতাসের ফিসফিসানি সুর

যে সুরের বাঁধন মানা দায়

যে বাঁধন খুলতে ভালো লাগে

যে খোলা ভাঙার মতো খোলা

যে ভাঙার ছন্দ মনের মতো

যে ভাঙার ছন্দ মদের মতো

যে মদে ভর্তি হ্রদের কোল

যে হ্রদের ওপর গাছের ছায়া

মেঘ আর তার ছায়াতে মেশা

যে মেশায় মিশলে পরেই নেশা

যে নেশা ছিটকে নিয়ে যায়

গোধূলির হেতমপুরের মাঠ

যেখানে তোর মতো কেউ হাঁটে

তার চলন বলন সব

ঠিক যেন পাখির কলরব

যে পাখির নরম নরম ডানা

হয় তুই বা হাসনুহানা

যে হাসনুহানার নরম ঠোঁটে

প্রতিদিন সন্ধ্যাতারা ফোটে

ফোটে আর জ্বলে এবং জ্বালায়

সে জ্বালা জ্বলতে ভালো লাগে

জ্বলি তবু বলতে ভালো লাগে

এ জ্বলন বড্ড মিঠে জ্বলন

এ জ্বলন ছড়িয়ে দেব আমি

যেভাবে সূর্য ছড়ায় আবির

তোর মতো মেঘের চোখে মুখে

ধিকি ধিকি জ্বলবে শাল আর শিমূল

জ্বলবে আমার করা ভুলে

যে ভুলে পুড়বে কচি সবুজ

দ্রিম দ্রিম দ্রাদ্রিম দাবানলে

Lyrics are provided for personal, educational, and non-commercial use. Rights belong to their respective owners. If you represent a rights holder and have a concern, please contact the site owner.

Bengali আধুনিক শিলাজিৎ মজুমদার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *